দশ বছর পর আজকে কেয়ার সাথে দেখা হবে কবিরের । ছাত্রাবস্থায় ওরা দুজন দুজনকে চিনত। পরবর্তীতে ওরা যখন একই অফিসে কাজ করা শুরু করে তখন ওদের ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায়। শুরুর দিকে অফিসের সেই দিনগুলো অনেক সুন্দর ছিল। এক সাথে লাঞ্চ করা কিংবা অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে যেয়ে একদিন বেশি বেরিয়ে আসা পরে আবার ছুটির দিনে দশ কাপ কফি খেয়ে হুরহুরি করে রিপোর্ট তৈরি করা এসব নিয়ে জীবনের যেই ছবিটা তৈরি হয়েছিল তার প্রেমে অনেকেই পরেছিল।

আজকে কেয়া কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত এক ব্যক্তিত্ব। আগামি দিনে ফ্যাশান জগতে মেয়েদের পদচারনা যে শুধুমাত্র সৌন্দর্যের পুঁজি দিয়ে আসবে না সে ব্যাপারে তার বক্তব্য অনেক গ্রহণযোগ্য । এক অদ্ভুত কৌশলে কেয়া প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে যে নারীকে সৌন্দর্য চর্চায় একটা আন্তর্জাতিক ভাষা দিতে হবে। একটা নারী যে আবরনে আবৃত হয়ে বাহিরে যাবে তা অন্য সংস্কৃতির মানুষের মাঝেও কৌতূহল জাগাতে সক্ষম হবে। তারাও বুঝতে পারবে নারীটি তার আবরনে কি প্রকাশ করতে চাচ্ছে । হোক তা ভারতবর্ষের পুরানো কামিজের ছায়ায় বানানো কোনও নতুন পোশাক। কিন্তু সে পোশাক বলতে পারবে নারীর কোমল হাত শক্ত দায়িত্ব নিতে সক্ষম। তার গলার স্কার্ফ স্বরের দৃঢ়তার সাথে, তার জামার ছাঁট চলার সক্ষমতা আর সাবলীলতার সাথে মিলে এমন একজন নারীকে তুলে ধরবে যে শক্তি আর জীবনের আধার । প্রকৃতি নারীর মাঝে যে ধৈর্যশীলতা দিয়েছে তারই যেন সর্বোৎকৃষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটে নারীর আবরণে ।

কবির কেয়াকে ভোলেনি এতগুলো বছরেও। মেয়েটি তাকে আকর্ষণ করেছিল। এমন নয় যে ওরা অনেক সময় একসঙ্গে কাটিয়েছে । বরং কেয়ার চেয়ে সমসাময়িক অন্য অনেক মেয়ে বন্ধুর সাথে কবির বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল। কিন্তু কেয়ার কথা যেন কবিরের মনের চাবি। কেয়ার কথায় মনের এমন সব দুয়ার খুলে যেত আর সেখান থেকে এমন সব ইচ্ছা বের হয়ে আসত যাদের কবিত জানত না। দশ বছর আগে কোন এক শরতের বিকেলে ওরা একটা সন্ধ্যা কাটিয়েছিল। তখনকার দিনের গান, অফিস পলিটিক্স , নতুন আইডিয়া যা নিয়ে তরুনেরা মেতে থাকত ঠিক সে কয়েকটা বিষয় নিয়ে ওরাও কথা বলছিল। আসলে অজুহাত খুজছিল আরও কিছু সময় একসাথে থাকার। হঠাৎ কেয়া বলে উঠল –

তুমি নিশ্চয় জানো পিয়া তোমাকে পছন্দ করে।

হ্যাঁ ।

পিয়া যদি তোমার খুব কাছে এসে বসে তোমার কেমন লাগে? তুমি যে প্রায়ই ওর গা ঘেঁষে বস বা ওর হাতে হাত ছোঁয়াও এম্নিতেই?

না এম্নিতে নয়। কখনও ভাল লাগে, কখনও অজান্তে।

পার্থক্য কি?

আছে। অভ্যাস হল কখনও সহজাত প্রকৃতির অংশ । তৃষ্ণা পেলে মানুষ পানি খোজে। আর অজান্তে হলে বলতে হবে তুমি পিয়াকে পছন্দ কর।

তুমি কি বলছ আমি বাজে কিছু করছি?

না। আমার মনে হচ্ছে তোমার তৃষ্ণার উত্তর পিয়া নয়। আচ্ছা বল আমার সাথে তুমি আলাদা সময় কাটাও কেন?

তোমার কথা শুনতে ভাল লাগে।

কিন্তু সবসময় ভাল লাগে না এইত?

হঠাৎ করে কবির কেয়ার ঠোটে নিজের ঠোঁট চেপে ধরল। সেটা কি ভাল লাগা থেকে নাকি প্রতিবাদ থেকে তা নিয়ে কেয়া চিন্তা করেনি। এরপর তাদের মধ্যকার সম্পর্কটা শীতল হতে থাকে।

দশ বছর পর তাদের দেখা হচ্ছে কারন আজ তাদের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা একসাথে হচ্ছে। এইবার কোনও একভাবে অনেকেই একজায়গায়। পিয়া আর ওর হাসব্যান্ড সব আয়জন করার দুসাধ্য দেখিয়েছে। সন্ধ্যায়ে কেয়া যখন পিয়ার বাসায় এল তখন আসর মাত্র জমতে শুরু করেছে। হাতে পানীয় নিয়ে পিছনে ফিরতে যাবে অমনি কে যেন পাশ থেকে এক টুকরো বরফ মিশিয়ে দিল।

কবির! চোখে চশমা , পোড়াটে ত্বক । কিন্তু কি সুন্দর আজকেও ।